Bangla

All bangla posts of islamic like: music, videos, short film,movie and updated news and info available.

Qaba Sharif

নামাজের শিক্ষা

নামাজের অনুষ্ঠান থেকে শিক্ষা

ব্যক্তিজীবনের জন্যে নামাজের অনুষ্ঠান থেকে শিক্ষা
একজন ব্যক্তি তার জীবনকে ইসলাম অনুযায়ী যাতে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারে, সে জন্যে নামাজ তার অনুষ্ঠান থেকে যে শিক্ষাগুলো দেয়, তা হচ্ছে

১. আল্লাহর আদেশ মানার মানসিকতা সৃষ্টি করা

নামাজের মাধ্যমে দিতে চাওয়া শিক্ষাগুলোর মধ্যে এটিই হচ্ছে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন মুসলমান তার সকল কাজকর্ম ফেলে নামাজ পড়তে চলে যায় বা দাঁড়িয়ে যায়, কারণ এটি আল্লাহর নির্দেশ। এটি না করলে কেউ তাকে মারধর করে না। অর্থাৎ শুধু আল্লাহর ভয়ে সে এটি করছে। প্রতিদিন পাঁচ বার মুসলমানদের অন্তরে এই আল্লাহভীতি জাগিয়ে দিয়ে নামাজ মুসলমানদের অন্তরে আল্লাহভীতি এমনভাবে বদ্ধমূল করে দিতে চায় যে, তারা যেন তাদের জীবনের প্রতিটি কাজ করার সময় এই আল্লাহভীতিকে সামনে রাখে। অর্থাৎ আল্লাহর খুশি হওয়াকে সামনে রাখে। আল্লাহ অখুশি হন এমন কোন কাজ সে করবে না এবং খুশি হন এমন সব কাজই করবে। আর ঐ কাজগুলো যেভাবে করলে আল্লাহ খুশি হন, শুধু সেভাবেই সে তা করবে। প্রতিটি কাজ ঐভাবে সে এ জন্যেই করবে যে ঐভাবে কাজটি করলে সে দুনিয়া ও আখিরাতে লাভবান হবে এবং কাজটি না করলে বা ঐভাবে না করলে সে কোন মতেই আল্লাহর শাস্তি তথা দুঃখ-কষ্ট থেকে দুনিয়া ও আখিরাতে রেহাই পাবে না। নামাজের অনুষ্ঠান থেকে শিক্ষার ব্যাপারে এ কথাটিই আল্লাহ বলেছেন, সূরা বাকারার ১৪৩ নং আয়াতে, যা আগে আলোচনা করা হয়েছে।

২. আল্লাহর আদেশ-নিষেধ নির্ভুল উৎস তথা আল-কুরআন থেকে জানার মানসিকতা তৈরি করা

নামাজে মহান আল্লাহ শুধু আল-কুরআন পড়তে বলেছেন। হাদীস, ফিকাহ্ গ্রন্থ, ইসলামী সাহিত্য, ডাক্তারী বই, অর্থনীতির বই বা অন্য কোন গ্রন্থ পড়তে বলেননি। এর মাধ্যমে আল্লাহ শিক্ষা দিয়েছেন ইসলামকে প্রথমে জানতে হবে নির্ভুল উৎস আল-কুরআন থেকে। কারণ কুরআনের সূরা নাহলের ৮৯ নং আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ইসলামের সকল মূল তথা সকল প্রথম স্তরের মৌলিক বিষয় কুরআনে উল্লেখ করে রেখেছেন। আর ঐ বিষয়গুলো হচ্ছে কুরআনের মূল বিষয়। ঐ চিরসত্য মূল বিষয়গুলো না জেনে কেউ যদি শুধু হাদীস, ফিকাহ বা ইসলামী সাহিত্য পড়ে ইসলাম জানতে চায়, তবে সে কখনই সঠিক ইসলাম জানতে পারবে না। আর এর ফলে সে ইসলামের ব্যাপারে নানা রকম ধোঁকায় পড়ে যাবে।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ইসলামের নামে কিছু অসতর্ক প্রচারণা, যা কুরআন, সুন্নাহ ও বিবেক বিরুদ্ধ, মুসলমানদের আজ নামাজের এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে। তাইতো দেখা যায়, অধিকাংশ নিষ্ঠাবান নামাজীরও আজ কুরআনের জ্ঞান নেই। আর এই অজ্ঞতার দরুন তারা ইসলামের অনেক প্রথম স্তরের মৌলিক বিষয়ের ব্যাপারেও নানাভাবে শয়তানের ধোঁকায় পড়ছে। এই অসতর্ক প্রচারণায় কয়েকটি হচ্ছে-ক. কুরআনের জ্ঞান অর্জন করা ফরজ হলেও গুরুত্বের দিক দিয়ে তার স্থান অন্য অনেক আমলের নিচে।
খ. কুরআনের জ্ঞান অর্জন করা সকলের জন্যে ফরজ নয়।
গ. ওজু ছাড়া কুরআন পড়া যাবে কিন্তু স্পর্শ করা মহাপাপ।
ঘ. অর্থ ছাড়া বা জ্ঞান অর্জনের ল্য ছাড়া কুরআন পড়লেও প্রতি অরে দশ নেকী।
ঙ. কুরআন বুঝা কঠিন। তাই বুঝতে গেলে গুমরাহ হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
চ. জ্ঞান অর্জনের চেয়ে আমলের গুরুত্ব বেশি।
ছ. জানার পর পালন না করলে না জানার দরুন পালন না করার চেয়ে বেশি গুনাহ। তাই বেশি জানলে বেশি বিপদ।
বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করেছি, ‘কুরআন, হাদীস ও বিবেক-বুদ্ধি অনুযায়ী- ‘মুমিনের এক নাম্বার কাজ আর শয়তানের এক নাম্বার কাজ’, ‘ওজু ছাড়া কুরআন স্পর্শ করলে গুনাহ হবে কি?’, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে অর্থ ছাড়া কুরআন পড়া গুনাহ না সওয়াব’ নামের পুস্তিকাগুলোতে।

৩. পর্দা করার শিক্ষা

পর্দা করা ইসলামী জীবন বিধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ কাজ। নামাজে সতর ঢেকে রাখার বিধানের মাধ্যমে আল্লাহ প্রতিদিন পাঁচ বার এই ফরজ কাজটির কথা মুসলমান নর-নারীদের স্মরণ করিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। আজ মুসলমান মহিলাদের অত্যন্ত নগণ্য সংখ্যকই ব্যক্তিগত জীবনে নামাজের এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাটিকে মেনে চলেন। নামাজের এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাটির কী দারুণ অবহেলা তারা করছেন, তাই না?

৪. সময় জ্ঞান শিক্ষা দেয়া

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদায় করতে হয়। এই সময় বেঁধে দিয়ে আল্লাহ মুসলমানদের সময়জ্ঞানের শিক্ষা দিতে চেয়েছেন। পুরো মুসলিমবিশ্বে বর্তমানে এই সময়জ্ঞানের দারুণ অভাব। নামাজের এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার কী দারুণ উপো, তাই না? অথচ মানুষের জীবন পরিচালনার জন্যে এটি একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমান বিশ্বে উন্নত জাতিগুলোর মধ্যে এই সময়জ্ঞান বেশ প্রখর।

৫. শরীর সুস্থ ও সবল রাখার শিক্ষা

নামাজের মাধ্যমে মহান আল্লাহ মানুষের শরীর সুস্থ ও সবল রাখার অপূর্ব শিক্ষা দিয়েছেন নিম্নোক্তভাবে
ক. শরীর, পোশাক-পরিচ্ছাদ ও জায়গা তথা পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে শরীর সুস্থ রাখার শিক্ষা
পূর্বেই (পৃষ্ঠা নং ২২) উল্লেখ করা হয়েছে নামাজের আগে শরীর, কাপড় ও জায়গা পাক তথা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার শর্তের মাধ্যমে মহান আল্লাহ মানুষকে তাদের শরীর, পোশাক-পরিচ্ছদ ও পরিবেশকে ঘন ঘন ধোয়া-মোছার মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার শিক্ষা দিয়েছেন। আর এভাবে তিনি তাদের নানা ধরনের রোগের হাত থেকে মুক্ত থাকার এক অপূর্ব ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় শরীর, পোশাক ও পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে দিনে পাঁচবার শিক্ষা দেয়ার পরও মুসলমানরা আজ পৃথিবীর অনেক জাতির চেয়ে ঐ ব্যাপারে অনেক অনেক পেছনে পড়ে আছে।

খ. ব্যায়াম করা ও ব্যায়ামে কী কী অঙ্গভঙ্গি (গড়াবসবহঃ) করতে হবে তা শিক্দেয়ার মাধ্যমে রোগমুক্ত রাখার ব্যবস্থা
সিজদা হচ্ছে নামাজের মধ্যে আল্লাহর সবচেয়ে পছন্দের অবস্থান। তাই আল্লাহ তো নামাজের সময় শুধু সিজদায় থেকে দোয়া কালাম পড়ে নামাজ শেষ করতে বলতে পারতেন। কিন্তু তা না করে তিনি হাত উঠিয়ে তাকবীরে তাহরীমা, মেরুদণ্ড বাঁকিয়ে রুকু ও সিজদা এবং ঘাড় ফিরিয়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ আদায় করতে বলেছেন। এখান থেকে বুঝা যায়, নামাজের বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির একটা শিক্ষা হচ্ছে শরীর চর্চার শিক্ষা। আর শরীর চর্চার সময় কী কী অঙ্গভঙ্গির দিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে, নামাজের মাধ্যমে আল্লাহ তা শিক্ষা দিয়েছেন। ডাক্তারী বিদ্যায় এখন এটি একটি প্রতিষ্ঠিত বিষয় যে, নিয়মিত ব্যায়াম করলে মানুষের বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি অনেক কম হয়। নামাজ থেকে দিতে চাওয়া শিক্ষাগুলো নিয়ে বাস্তবে তা নামাজীরা পালন করুক, এটিই তো আল্লাহ চান। মুসলমানরা যদি ব্যায়ামের সময় কী ধরনের অঙ্গভঙ্গি করতে হবে নামাজ থেকে ঐ শিক্ষাগুলো নিয়ে বাস্তবে প্রতিদিন ঐভাবে কিছুণ ব্যায়াম করে তবে তাদের অনেক রোগ-ব্যাধি কম হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় অধিকাংশ নামাজীই শরীর সুস্থ রাখার ব্যাপারে নামাজের এই অপূর্ব শিক্ষাটি বাস্তবে পালন করেন না।

গ. মেসওয়াক করার মাধ্যমে শরীর সুস্থ রাখার শিক্ষা

ওজুর সময় মেসওয়াক করা সুন্নত। রাসূল সা. এটিকে এত গুরুত্ব দিতেন যে, ওফাতের আগে যখন অজ্ঞান অবস্থা থেকে একটু জ্ঞান আসছিল তখনই তিনি মেসওয়াক চাচ্ছিলেন। পাঁচবার ওজুর সময় কেউ যদি নিয়মিত মেসওয়াক বা ব্রাশ করে তবে তার দাঁত ও মুখের রোগ অনেক অনেক কম হবে। তাছাড়া রাসূল সা. বলেছেন, মেসওয়াক করে নামাজ পড়লে নামাজের সওয়াব অনেক গুণ বেড়ে যায়।

এখন প্রশ্ন থাকে যে, কী কারণে আল্লাহ মুসলমানদের নামাজের মাধ্যমে এভাবে শরীর সুস্থ-সবল রাখার শিক্ষা দিলেন। সে কারণটি হচ্ছে, ইসলামকে বিজয়ী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে গেলে মুসলমানদের জরা-জীর্ণ শরীরের অধিকারী হলে চলবে না। ঐ কাজ করতে তাদের কঠোর প্রতিরোধের মুকাবেলা করতে হবে। সুতরাং তাদের অবশ্যই সুস্থ-সবল স্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে। তাই নামাজের মাধ্যমে আল্লাহ মুসলমানদের শরীর-স্বাস্থ্য, সুস্থ-সবল রাখার এই অপূর্ব শিক্ষা দিয়েছেন।

৬. ইসলামের বিধানসমূহ গুরুত্ব অনুযায়ী পালনের শিক্ষা

নামাজের বিধানসমূহকে ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত ও মুস্তাহাব এই চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। নিয়ম হচ্ছে, ফরজে ভুল হলে নামাজ হবে না। ওয়াজিবে ভুল হলে সহূ সেজদা দ্বারা তা না শোধরালে নামাজ হবে না। সুন্নাতে ভুল হলে নামাজ হবে তবে একটু দুর্বল হবে। আর মুস্তাহাবে ভুল হলে নামাজের কোন তি হবে না।

নামাজের বিধানগুলো গুরুত্ব অনুযায়ী পালনের বিধান থেকে শিক্ষা হচ্ছে, ইসলামী জীবন বিধানেও মৌলিক ও অমৌলিক বিষয় আছে। মৌলিক বিষয়গুলোর কোন একটি বাদ দিয়ে অমৌলিক বিষয়গুলো যতই পালন করা হোক না কেন, তাতে ইসলাম পালন হবে না এবং ঐ ব্যক্তিকে জাহান্নামে যেতে হবে। আর মৌলিক বিষয়গুলো পালন করার পর অমৌলিক বিষয় পালনে যদি কিছু দুর্বলতা থাকে, তবে তাতে কিছু দুর্বল হলেও ইসলাম পালন হয়ে যাবে। অর্থাৎ ঐ ব্যক্তিকে জাহান্নামে যেতে হবে না। তবে তার বেহেশতের মান কিছু কমবে।

সমাজ জীবনের জন্যে নামাজের অনুষ্ঠান থেকে শিক্ষা

মানুষ সামাজিক জীব। সুশৃঙ্খল ও সমাজবদ্ধ মানবজীবন আধুনিক সভ্যতার পূর্বশর্ত। তাই মানুষ গড়ার প্রোগ্রামে যদি সুষ্ঠু সমাজবদ্ধ জীবন গড়ার শিক্ষা না থাকে, তবে সেই প্রোগ্রাম অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আল্লাহর মানুষ গড়ার প্রোগ্রাম অসম্পূর্ণ থাকতে পারে না। তাই মুসলমানরা কিভাবে তাদের সমাজ জীবন পরিচালনা করবে, তার অপূর্ব শিক্ষা তিনি নামাজের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিয়েছেন। এ শিক্ষা আল্লাহ ‘জামায়াতে’ নামাজ পড়ার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিয়েছেন।

জামায়াতে নামাজের গুরুত্বের ব্যাপারে কুরআনের বক্তব্য

জামায়াতে নামাজ পড়াকে কুরআনে খুব গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাই ইসলামী শরীয়াতে এটি একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ কাজ। পবিত্র কুরআনের দুই স্থানে জামায়াতে নামাজ আদায় করার কথাটি বা আদায় করার গুরুত্ব নিম্নোক্তভাবে উল্লেখ করা হয়েছে
সূরা বাকারার ৪৩ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন
وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِيْنَ.
অর্থ: রুকুকারীগণের সাথে রুকু কর।(অর্থাৎ জামায়াতের সঙ্গে নামাজ আদায় কর)।

জুম্আর নামাজ জামায়াতে আদায় করার ব্যাপারে সূরা-জুমআর ৯ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন
يَاأَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلَوةِ مِنْ يَّوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنتُمْ تَعْلَمُوْنَ.
অর্থ: হে ব্যক্তিগণ যারা ঈমান এনেছ, জুমআর দিনে যখন নামাজের জন্যে ডাকা হয় তখন কেনা-বেচা ত্যাগ করে আল্লাহর স্মরণের (নামাজের) দিকে দ্রুত চলে যাও। এটি তোমাদের জন্যে অধিক উত্তম, যদি তোমরা জানতে।
ব্যাখ্যা: আয়াতে কারীমার ব্যাখ্যা ২৬ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে।

জামায়াতে নামাজের ব্যাপারে হাদীস
জামায়াতে নামাজ পড়ার গুরুত্ব বর্ণনাকারী অনেক হাদীস আছে। এখানে আমি শুধু বোখারী ও মুসলিম শরীফের একটি হাদীসের প্রকৃত বক্তব্যটা উপস্থাপন করছি। আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, আল্লাহর কসম, আমার ঐ সব মুসলমানের ঘরে আগুন ধরিয়ে দিতে ইচ্ছে করে যারা (বিশেষ ওজর ছাড়া) আযানের পর জামায়াতে নামাজ পড়তে না এসে, ঘরে একা নামাজ পড়ে।
উপরে বর্ণিত কুরআন ও হাদীসের বক্তব্য থেকে অতি সহজে বুঝা যায় যে, ইসলাম জামায়াতে নামাজ পড়াকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ বলেছেন, তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি কাজ বন্ধ রেখে জামায়াতে নামাজ পড়তে আসা অনেক উত্তম। এ কথাটি যে কত বড় সত্য তা অতি সহজে বুঝা যাবে, জামায়াতে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহ যে শিক্ষাগুলো দিতে চেয়েছেন, সেগুলো জানার পর। তখন আমরা সবাই এক বাক্যে স্বীকার করতে বাধ্য হব, যে সমাজে ঐ শিক্ষাগুলোর বাস্তব প্রয়োগ নেই, সেখানে মানুষের যতই টাকা-পয়সা, ব্যবসা-বাণিজ্য থাকুক না কেন, সামাজিক শান্তি বলতে কিছুই থাকতে পারে না।
এবার চলুন জামায়াতে নামাজের সামাজিক শিক্ষাগুলো আলোচনা করা যাক। সে অপূর্ব শিক্ষাগুলো হচ্ছে

১. সমাজের সদস্যদের পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, বন্ধুত্ব, ভালবাসা, সহানুভূতি, সহমর্মিতা, স্নেহ-শ্রদ্ধা ইত্যাদি সামাজিক গুণ সৃষ্টি করা

পবিত্র কুরআনের সূরা হুজুরাতের ১০ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন,
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُوْنَ إِخْوَةٌ.
অর্থ ও ব্যাখ্যা: মুমিনরা পরস্পরের ভাই। আল্লাহ এখানে বলছেন, এক ভাইয়ের অন্তরে অন্য ভাইয়ের জন্যে যেমন সহানুভূতি, সহমর্মিতা, স্নেহ-শ্রদ্ধা, ভালবাসা ইত্যাদি থাকে, একজন মুমিনের অন্তরেও ঠিক অন্য মুমিনের জন্যে অনুরূপ অনুভূতি থাকবে।
রাসূল সা. বলেছেন, মুসলমানদের সমাজ একটি দেহের মত। দেহের কোথাও কোন ব্যথা বা কষ্ট হলে সমস্ত দেহে তা অনুভূত হয়। আবার দেহের কোথাও সুখ অনুভূত হলে তাও সমস্ত শরীরে অনুভূত হয়। মুসলমানদের সমাজও হতে হবে অনুরূপ। অর্থাৎ তাদের সমাজেরও কোন ব্যক্তির উপর কোন দুঃখ-কষ্ট আসলে সমাজের সকলের উপর তার ছাপ পড়তে হবে এবং সবাইকে সেটি দূর করারও চেষ্টা করতে হবে। আবার সমাজের কারো কোন সুখের কারণ ঘটলেও সমাজের সকলের উপর তার ছাপ পড়তে হবে।‘মুমিনরা পরস্পরের ভাই’কথাটি বলেই আল্লাহ ছেড়ে দেন নাই। ভাইয়ের অন্তরে ভাইয়ের জন্যে যেমন স্নেহ-শ্রদ্ধা, মমতা, ভালবাসা, সহমর্মিতা ইত্যাদি থাকে তেমন মুসলমানদের সমাজের সদস্যদের পরস্পরের অন্তরেও অনুরূপ গুণাবলী সৃষ্টি করার জন্যে, তিনি ব্যবস্থা দিয়েছেন জামায়াতে নামাজের। আর এটি জামায়াতে নামাজ পড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

এ কথা সবাই স্বীকার করবেন যে, পারস্পরিক দেখা-সাাৎ, ওঠা-বসা যত বেশি হয়, ততই একজনের প্রতি আর একজনের মায়া-মহব্বত, স্নেহ-মমতা, সহানুভূতি, সহমর্মিতা ইত্যাদি বেশি হয়। আর তা না হলে ঐ সবগুলো বিষয়ই ধীরে ধীরে কমে যায় ()। জামায়াতে নামাজ মুসলমানদের সমাজের একজনের সঙ্গে আর একজনের সেই দেখা-সাাতের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। জামায়াতে নামাজ প্রতিদিন পাঁচবার নিজ এলাকার লোকদের সঙ্গে, প্রতি সপ্তাহে একবার (জুমআর নামাজ) আরো একটু বড় এলাকার লোকদের সঙ্গে এবং প্রতি বছর দু’বার (ঈদের নামাজ) আরো একটু বড় এলাকার লোকদের সঙ্গে এবং প্রতি বছর একবার (হজ্জের সময়) সমস্ত পৃথিবীর সচ্ছল মুসলমানদের পরস্পরের মধ্যে দেখা-সাাতের ব্যবস্থা করেছে। কী অপূর্ব ব্যবস্থা! অন্য কোন জীবন ব্যবস্থায় সমাজের সদস্যদের পরস্পরের প্রতি স্নেহ-মমতা, ভালবাসা তৈরি করার এমন অপূর্ব সুন্দর ব্যবস্থা আছে কি?

২. সামাজিক সাম্য তৈরির শিক্ষা

পবিত্র কুরআনের সূরা হুজরাতের ১৩ নং আয়াতে আল্লাহ বলছেন :
يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوْبًا وَّقَبَائِلَ لِتَعَارَفُواط إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللهِ أَتْقَاكُمْط
অর্থ: হে মানুষ, আমি তোমাদের একজন পুরুষ এবং একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা পরস্পরকে চিনতে পারো। নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট সেই সব থেকে বেশি সম্ভ্রান্ত, যার অন্তরে আল্লাহভীতি সব থেকে বেশি।ব্যাখ্যা: আল্লাহ এখানে বলছেন, তিনি মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন একজন পুরুষ ও একজন মহিলা থেকে। এরপর তিনি তাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছেন। তবে এই বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করার পেছনে তাঁর উদ্দেশ্য পরস্পর সম্মান ও মর্যাদা নির্ণয় করা নয় বরং পরস্পরকে সহজে চেনার ব্যবস্থা করা। এরপর আল্লাহ বলেছেন, তাঁর নিকট মানুষের সম্মান-মর্যাদার মাপকাঠি হচ্ছে আল্লাহভীতি। অর্থাৎ আল্লাহর ভয় যার অন্তরে যতি বেশি, আল্লাহর নিকট সে তত বেশি মর্যাদাশীল। আল্লাহর ভয়ই মানুষকে অন্যায় কাজ থেকে দূরে রাখে এবং ন্যায় কাজ করতে বাধ্য করে। তাহলে আল্লাহ বলছেন, ন্যায় কাজ করা বা বাস্তবায়ন করা এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকা বা তা প্রতিরোধ করাই হচ্ছে মানুষের মর্যাদাশীল হওয়ার মাপকাঠি। বংশ, জাতি, ধনী-গরীব, কালো-সাদা, মনির-চাকর ইত্যাদি নিয়ে যেন অহংকার সৃষ্টি না হতে পারে, সে জন্যে তিনি কর্মপদ্ধতিও তৈরি করে দিয়েছেন। সেই কর্মপদ্ধতি হচ্ছে ‘জামায়াতে নামাজ’। একজন মুসলমান দিনে পাঁচবার জামায়াতে নামাজের সময় তার বংশ, ভাষা, গায়ের রং, অর্থনৈতিক, সামাজিক ইত্যাদি পরিচয় ভুলে গিয়ে অন্য মুসলমান ভাইয়ের সঙ্গে এক লাইনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। এ সময় মনিবের পাশেই তাঁর ভৃত্য দাঁড়াতে পারে বা মনিবের মাথা যেয়ে লাগতে পারে সামনের কাতারে দাঁড়ানো তাঁর ভৃত্যের পায়ের গোড়ালিতে। এভাবে দিনে পাঁচবার বাস্তব প্রশিণের মাধ্যমে মুসলমানদের অন্তর থেকে বংশ, বর্ণ, ভাষা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিচয়ভিত্তিক অহংকার সমূলে দূর করার অপূর্ব ব্যবস্থা করা হয়েছে। সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার এমন অপূর্ব প্রশিণের ব্যবস্থা খুঁজে পাবেন কি অন্য কোন জীবন ব্যবস্থায়?

৩. সামাজিক শৃঙ্খলার শিক্ষা

সামাজিক শৃঙ্খলা ব্যতীত কোন জাতি উন্নতি করতে পারে না। জামায়াতে নামাজের মাধ্যমে মুসলমানদের সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার অপূর্ব শিক্ষা দেয়া হয়েছে। হাজার হাজার মুসলমানও যদি জামায়াতে দাঁড়ায়, তবুও দেখবেন, সোজা লাইনে দাঁড়িয়ে, কী সুন্দর শৃঙ্খলার সঙ্গে তারা একটি কাজ করছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ মুসলমানদের শিক্ষা দিতে চাচ্ছেন, তারা যেন ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের প্রতিটি কাজ সুশৃঙ্খলভাবে করে। এত সুন্দর প্রশিণের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান বিশ্বে মুসলমানদের সামাজিক শৃঙ্খলার অবস্থা দেখলে সত্যিই দুঃখ হয়।

৪. সমাজ পরিচালনা পদ্ধতির বাস্তব শিক্ষা

মানবসমাজের সুখ, শান্তি, উন্নতি, প্রগতি ইত্যাদি নির্ভর করে সুষ্ঠুভাবে সমাজ পরিচালনার ওপর। সুষ্ঠুভাবে সমাজ পরিচালনা করতে হলে কী কী বিষয় দরকার, জামায়াতে নামাজ পড়ার মাধ্যমে আল্লাহ প্রতিদিন পাঁচ বার তা মুসলমানদের মনে করিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। সেই বিষয়গুলো হচ্ছে-

ক. নেতা নির্বাচন করা

জামায়াতে নামাজের সময়, একের অধিক লোক হলেই একজন ইমাম বা নেতা বানাতে হয়। এখান থেকে আল্লাহ শিক্ষা দিচ্ছেন, কোন সামাজিক কর্মকাণ্ড, যেখানে একের অধিক লোক জড়িত, তা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে হলে একজন নেতা অবশ্যই নির্বাচন করতে হবে।

খ. পুরুষ না মহিলা নেতা

জামায়াত যদি শুধু পুরুষের হয় বা পুরুষ ও মহিলা মিশ্রিত হয়, তাহলে পুরুষ ইমাম হবে। কিন্তু জামায়াত যদি শুধু মহিলাদের হয়, তবে সেখানে মহিলা ইমাম হতে পারবে। এ থেকে আল্লাহ শিক্ষা দিতে চাচ্ছেন, যে সকল সামাজিক কর্মকাণ্ড পুরুষ ও মহিলা অধ্যুষিত বা শুধু পুরুষ অধ্যুষিত, সেখানে পুরুষই নেতা হবে। আর যে সকল সামাজিক কর্মকাণ্ড শুধু মহিলা অধ্যুষিত, সেখানে মহিলা নেতা হতে পারবে।

এর কারণ হল, পুরুষ ও মহিলা মিশ্রিত সামাজিক কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে চালাতে হলে, একটি বিশেষ দৈহিক, বুদ্ধি-বৃত্তিক ও মানসিক গঠন দরকার। যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তিনিই সব থেকে ভাল জানেন, ঐ ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দেয়ার জন্যে ঐ তিনটি গুণের প্রয়োজনীয় সমন্বয় কার মধ্যে অপোকৃত ভাল আছে। এ বিষয়টি বিবেচনা করে তিনি পুরুষকেই সে দায়িত্ব দিয়েছেন। আর এটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে আল্লাহ বলেছেন, সূরা নিসার ৩৪ নং আয়াতে। আয়াতটি হচ্ছে

الرِّجَالُ قَوَّامُوْنَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍط

অর্থ: পুরুষেরা হচ্ছে নারীর পরিচালক। কারণ, আল্লাহ তাদের একজনকে অপরের উপর বিশিষ্টতা দান করেছেন।
ব্যাখ্যা: আল্লাহ এখানে স্পষ্ট করে বলেছেন যে, পুরুষ হচ্ছে নারীর পরিচালক। এরপর তিনি এর কারণটি বলেছেন। কারণটি হল পুরুষকে নারীর ওপর বিশিষ্টতা দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ পরিচালনা করা বা নেতৃত্ব দেয়ার জন্যে যে সব দৈহিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানসিক বিশিষ্টতা দরকার, সে ব্যাপারে পুরুষকে নারীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। বিষয়টি চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও সত্য। মানুষেরা যদি এই সৃষ্টির রহস্যভিত্তিক কথা না মানে, তবে ভোগান্তি হবে তাদের, আল্লাহর নয়।আল্লাহ কথাটি কুরআনে উল্লেখ করেই থেমে থাকেননি, প্রতিদিন পাঁচ বার নামাজের মাধ্যমে তা স্মরণ করিয়ে দেয়া এবং বাস্তবে প্রয়োগ করে দেখিয়ে দেয়ারও ব্যবস্থা করেছেন।

গ. নেতা হওয়ার জন্যে প্রয়োজনীয় গুণাগুণ
একটি সমাজের বা দেশের নেতার উপর অনেকাংশে নির্ভর করে, ঐ সমাজ বা দেশের ভবিষ্যৎ কী হবে। একজন ভাল নেতা যেমন একটি সমাজ বা দেশকে দ্রুত সব দিক থেকে উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে পারেন, ঠিক তেমনি একজন খারাপ নেতা একটি সমাজ বা দেশকে দ্রুত ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই যে গুণাবলী থাকলে কোন ব্যক্তি নেতা হতে পারবে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই গুণগুলো রাসূল সা. সুন্দরভাবে মুসলমানদের জানিয়ে দিয়েছেন, নামাজের ইমাম হওয়ার গুণাবলী বর্ণনাকারী নিম্নের হাদীসগুলোর মাধ্যমে-

তথ্য-১
عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَؤُمُّ الْقَوْمَ أَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللهِ فَإِنْ كَانُوا فِي الْقِرَاءَةِ سَوَاءً فَأَعْلَمُهُمْ بِالسُّنَّةِ فَإِنْ كَانُوا فِي السُّنَّةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ هِجْرَةً فَإِنْ كَانُوا فِيْ الْهِجْرَةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ سِلْمًا وَلاَ يَؤُمَّنَّ الرَّجُلُ الرَّجُلَ فِي سُلْطَانِهِ وَلا يَقْعُدْ فِي بَيْتِهِ عَلَى تَكْرِمَتِهِ إِلاَّ بِإِذْنِهِ.رواه مسلم و في رواية لَّهُ وَلاَ يَؤُمَّنَّ الرَّجُلَ فِىْ اَهْلِهِ.
অর্থ: হযরত আবু মাসউদ রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন : মানুষের ইমামতি করবে সে-ই, যে কুরআন ভাল পড়ে। যদি কুরআন পড়ায় সকলে সমান হয়, তবে যে সুন্নাহ বেশি জানে। যদি সুন্নাহেও সকলে সমান হয়, তবে যে হিজরত করেছে সে। যদি হিজরতেও সকলে সমান হয়, তবে যে বয়সে বেশি। কেউ যেন অপর ব্যক্তির অধিকার ও মতাস্থলে ইমামতি না করে এবং তার বাড়িতে তার সম্মানের স্থলে না বসে অনুমতি ব্যতীত। (মুসলিম)
ব্যাখ্যা: কুরআন ভাল পড়ার অর্থ হচ্ছে শুদ্ধ করে পড়াসহ কুরআনের জ্ঞান থাকা। তাই এ হাদীসটিতে রাসূল সা. ইমাম হওয়ার জন্যে প্রয়োজনীয় গুণাগুণ বা যোগ্যতাগুলো যে ক্রম অনুযায়ী উল্লেখ করেছেন, তা হচ্ছে-
ক. শুদ্ধ করে পড়াসহ কুরআনের জ্ঞান থাকা,
খ. সুন্নাহ তথা হাদীসের জ্ঞান থাকা,
গ. হিজরত করা এবং
ঘ. বেশি বয়স।

তথ্য-২
عَنْ أَبِي سَعِيْدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانُوا ثَلاَثَةً فَلْيَؤُمَّهُمْ أَحَدُهُمْ وَأَحَقُّهُمْ بِالْإمَامَةِ أَقْرَؤُهُمْ. (رواه مسلم) وَ ذَكَرَ حَدِيْثَ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ فِىْ بَابِ بَعْدَ فَضْلٍ الاَذَانِ.
অর্থ: হযরত আবু সায়ীদ খুদরী রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন : যখন তিন ব্যক্তি হবে, তখন যেন তাদের মধ্য হতে একজন ইমামতি করে এবং ইমামতির অধিকার তার, যে কুরআন অধিক ভাল পড়ে। (মুসলিম)
ব্যাখ্যা: এ হাদীসখানিতে রাসূল সা. বলেছেন, নামাজের ইমাম সেই হবে যে শুদ্ধ করে পড়াসহ কুরআনের জ্ঞান অধিক রাখে।
তথ্য-৩

عَنْ عَمْرِو بْنِ سَلَمَةَ قَالَ كُنَّا بِمَاءٍ مَمَرِّ النَّاسِ وَكَانَ يَمُرُّ بِنَا الرُّكْبَانُ فَنَسْأَلُهُمْ مَا لِلنَّاسِ مَا هَذَا الرَّجُلُ……….অর্থ: আমর ইবনে সালেমা রা. বলেন, আমরা লোক চলাচলের পথে একটি কূপের নিকট বাস করতাম, যেখান দিয়ে আরোহীগণ চলাচল করত। আমরা তাদের জিজ্ঞাসা করতাম, মানুষের কী হল? তারা যে লোকটি সম্বন্ধে বলে তিনি কে? তারা উত্তর করত, লোকটি মনে করে তাকে আল্লাহ রাসূল করে পাঠিয়েছেন এবং তার প্রতি এইরূপ ওহী নাযিল করেছেন। তখন আমি ওহীর বাণীটি এমনভাবে মুখস্থ করে নিতাম যে তা আমার অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে যেত। আরবগণ যখন ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে মক্কা বিজয়ের অপো করছিল, তখন তারা বলত তাকে (মুহাম্মাদকে) তার গোত্রের সাথে বুঝতে দাও। যদি সে তাদের উপর জয়লাভ করে তখন বুঝা যাবে, সে সত্য নবী। যখন মক্কা বিজয়ের ঘটনা ঘটল, তখন সকল গোত্রই ইসলাম গ্রহণে তাড়াহুড়ো করল এবং আমার পিতা গোত্রের অন্য সকলেরআগে ইসলাম গ্রহণ করলেন। তিনি গোত্রে ফিরে এসে বললেন, আল্লাহর কসম আমি তোমাদের নিকট এক সত্য নবীর নিকট থেকে ফিরে এসেছি। তিনি বলে থাকেন, এই নামাজ এই সময় পড়বে এবং ঐ নামাজ ঐ সময় পড়বে। যখন নামাজের সময় উপস্থিত হবে, তখন তোমাদের মধ্য হতে কেউ যেন আযান দেয় এবং তোমাদের মধ্যে ইমামতি যেন সেই ব্যক্তি করে যে অধিক কুরআন জানে। তখন লোকেরা দেখল, আমার অপো অধিক কুরআন জানে এমন কেউ নেই। কেননা আমি পথিকদের নিকট হতে পূর্বেই তা মুখস্থ করে নিয়েছিলাম। তখন তারা আমাকেই তাদের আগে বাড়িয়ে দিল অথচ তখন আমি ছয় কি সাত বছরের বালকমাত্র। ……….. (বুখারী)

ব্যাখ্যা: এ হাদীসটি থেকে বুঝা যায়, নামাজের ইমাম হওয়ার জন্যে কুরআনের জ্ঞান থাকা বয়সের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

(সংগৃহিত)……চলমান

Islamic picture

ইসলাম (মুসলিম/মুসলমান) এর পরিচয়

(আরবি: الإسلام‎ আল্-ইস্‌লাম্) একটি একেশ্বরবাদী ধর্ম । আল্-কুরআন দ্বারা পরিচালিত  যা  এমন এক কিতাব যা  হবহু আল্লাহর ( الله আল্লাহ ) বানী এবং ইসলামের প্রধান নবী মুহাম্মাদ মুস্তফা (সঃ) এর প্রদত্ত শিক্ষা পদ্ধতি, জীবনাদর্শ (সুন্নাহ এবং হাদিস নামে লিপিবদ্ধ রয়েছে ) এর ভিত্তি । ইসলামের অনুসারীরা মুহাম্মদ (সাঃ) কে শেষ নবী বলে মনে করেন। “ইসলাম” শব্দের অর্থ “শান্তি”, “আত্মসমর্পণ”, বা একক স্রষ্টার নিকট নিজেকে সমর্পন করা। অনেকের ধারণা যে মুহাম্মদ (সা) হলেন এই ধর্মের প্রবর্তক। তবে মুসলমানদের মতে, তিনি এই ধর্মের প্রবর্তক নন বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সর্বশেষ ও চূড়ান্ত রাসূল (পয়গম্বর)। খৃস্টিয় সপ্তম শতকে তিনি এই ধর্ম পুনঃপ্রচার করেন। পবিত্র আল্-কুরআন ইসলাম ধর্মের মূল ধর্মগ্রন্থ। এই ধর্মে বিশ্বাসীদের মুসলমান বা মুসলিম বলা হয়। পবিত্র আল্-কুরআন আল্লাহর বাণী এবং এটি তার কর্তৃক মুহাম্মদ (সঃ) এর নিকট প্রেরিত এবং মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহর শেষ নবী। হাদিসে প্রাপ্ত তাঁর নির্দেশিত কাজ ও শিক্ষার ভিত্তিতে আল্-কুরআন এর ব্যাখ্যা করা হয়। তবে, কোনো হাদিসের মর্মার্থ কোরআনের বিরুদ্ধে গেলে, তা বাতিল বলে গণ্য হয়।

ইহুদি ও খৃস্ট ধর্মের ন্যায় ইসলাম ধর্মও ইব্রাহিমীয়। বর্তমান বিশ্বে মুসলমানের সংখ্যা আনুমানিক ১৬০ কোটি এবং তারা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মাবলম্বী গোষ্ঠী।  বর্তমানে সমগ্র বিশ্ব জুড়ে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া, পূর্ব আফ্রিকা, পশ্চিম আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব ইউরোপে মুসলমানরা বাস করেন। আরবে এ ধর্মের গোড়াপত্তন হলেও অধিকাংশ মুসলমান আন্যাংশ। আরব দেশের মুসলমানরা মোট মুসলমান জনসংখ্যার শতকরা মাত্র ২০ বিশ ভাগ।যুক্তরাজ্যসহ বেশ কিছু বলকান অঞ্চল দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম ইসলাম।